Friday, October 17, 2025

আপট্রেন্ডে প্রাইস বাড়তে থাকলে ভলিউম বাড়ে। ডাউনট্রেন্ডে প্রাইস কমতে থাকলে ভলিউম বাড়ে। এই ভলিউম যখন ড্রাই হবে, তখন অনুমান করা হয় যে পতন থেমেছে। তার মানে এই নয় যে তখন থেকেই ঘুরবে। বাজার ঘুরে যাওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়

আপনার উক্তিটিতে বাংলাদেশের স্টক মার্কেটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। এখন একে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা যাক—

১. আপট্রেন্ডে ভলিউম বাড়া মানে কী:
যখন কোনো শেয়ারের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে এবং একই সঙ্গে লেনদেন (ভলিউম) বাড়তে থাকে, তখন বোঝা যায় বাজারে সক্রিয় ক্রেতার আগ্রহ আছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারটি নিয়ে আশাবাদী এবং নতুন ক্রেতা প্রবেশ করছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) এই চিত্রটি সাধারণত দেখা যায় যখন কোনো কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল ভালো খবর (যেমন: ডিভিডেন্ড, EPS গ্রোথ, নতুন প্রজেক্ট, রাইট শেয়ার ইত্যাদি) বাজারে আসে। তখন শেয়ারপ্রতি দামের পাশাপাশি ভলিউমও বেড়ে যায়।

২. ডাউনট্রেন্ডে প্রাইস কমার সময় ভলিউম বাড়া মানে কী:
যখন দাম কমছে এবং ভলিউম বাড়ছে, তখন বোঝা যায় বিক্রেতারা সক্রিয় হয়েছে। অনেকে শেয়ার ছাড়ছে, প্যানিক সেল হচ্ছে। এটি সাধারণত ঘটে যখন বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় (যেমন বাজেট ঘোষণার আগে, রাজনৈতিক চাপ, কিংবা কোম্পানির খারাপ পারফরম্যান্সের খবর)।
এই পর্যায়ে “smart money” বা অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ক্রেতা নয়—তারা অপেক্ষা করে।

৩. ভলিউম ড্রাই হওয়া মানে কী:
যখন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই নিষ্ক্রিয় হয়, অর্থাৎ দাম কমলেও লেনদেন আর বাড়ে না, তখন তাকে “volume dry” বলে।
এটি একটি সাইকোলজিকাল ক্লান্তির ইঙ্গিত দেয়—সবাই ক্লান্ত, কেউ বিক্রি করছে না, কেউ নতুন করে কিনছেও না। এই অবস্থায় সাধারণত বাজারের পতন ধীরে ধীরে থেমে যায়।

৪. কিন্তু “ড্রাই ভলিউম” মানেই ঘুরে দাঁড়ানো নয়:
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দেখা যায়, ভলিউম কমে যাওয়ার পরও দাম আরও কিছুদিন স্থবির থাকতে পারে। কারণ বাজার ঘুরে দাঁড়াতে হলে নতুন করে ক্রেতার আগমন দরকার।
অর্থাৎ ভলিউম ড্রাই হওয়া হলো পতন থামার সংকেত, কিন্তু উত্থান শুরু হওয়ার সংকেত নয়
এখানে ধৈর্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাকা বিনিয়োগকারীরা এই পর্যায়ে “confirmation signal” খোঁজেন—যেমন একাধিক দিন দাম ও ভলিউম ধীরে ধীরে বাড়ছে কিনা, বড় ক্রেতারা ফিরছে কিনা ইত্যাদি।

সংক্ষেপে:
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ভলিউম ও প্রাইসের সম্পর্ক হলো বাজারের নাড়ি।

  • ভলিউমসহ উত্থান = শক্তিশালী আপট্রেন্ড।

  • ভলিউমসহ পতন = প্যানিক সেল বা দুর্বল বাজার।

  • ভলিউম ড্রাই = বাজার ক্লান্ত, পতন থামছে কিন্তু ঘুরে দাঁড়ায়নি।

একজন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর কাজ হলো এই তিনটি পর্যায় চিহ্নিত করে সময় অনুযায়ী অবস্থান নেওয়া—অর্থাৎ তাড়াহুড়ো না করে, সংকেত পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

No comments:

Post a Comment

আপট্রেন্ডে প্রাইস বাড়তে থাকলে ভলিউম বাড়ে। ডাউনট্রেন্ডে প্রাইস কমতে থাকলে ভলিউম বাড়ে। এই ভলিউম যখন ড্রাই হবে, তখন অনুমান করা হয় যে পতন থেমেছে। তার মানে এই নয় যে তখন থেকেই ঘুরবে। বাজার ঘুরে যাওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়

আপনার উক্তিটিতে বাংলাদেশের স্টক মার্কেটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। এখন একে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা যাক— ১. আপট্রে...