শেয়ার বাজারে আপনার বিনিয়োগ নিরাপদ রাখার কিছু কৌশলঃ
১. আপনার হাতে থাকা অলস টাকার ৫০% বিও একাউন্টে রাখবেন বাকি ৫০% ব্যাংক একাউন্টে যা মার্কেট ধসের সময় আপনাকে পুর্ণ সাপোর্ট দিবে মানে এভারেজ করে সময় বাচিয়ে প্রফিট এনে দিবে।
২. বিও হিসাবে জমা থাকা টাকা দিয়ে ৩ ধাপে শেয়ার ক্রয় করবেন যাতে শেয়ারটির দাম পরে গেলে এভারে করা যায়। আর যদি আপনার কাছে ইনসাইডার নিউজ থাকে তাহলে এই পদ্ধতি না মানলেও হবে।
৪. আটকে যাওয়া স্টকটিতে ধাপে ধাপে এভারেজ করা বা স্টপ লছ মেনে নেয়া উত্তম মানে হলো প্রতিদিন এভারেজ না করে ডায়নামিক সাপোর্ট এ এভারেজ করা।
৫. গোড়ায় শেয়ার বাই করা বা ব্রেক আউট এ বাই করে শেয়ারটির রেজিস্ট্রেন্স পয়েন্টে সেল করে নিরাপদ থাকা যেখানে আমরা অতি লোভ করে বাড়তে থাকা স্টকটি সেল না করে অধিক বাই করি। এমন ভূল থেকে দূরে থাকা।
৬. ২-৪ সেক্টরের শেয়ার দিয়ে পোর্টফলিও সাজানো সেক্ষেত্রে ইন্ডেক্স বাড়ার সাথে যে সেক্টরগুলো মুভমেন্টে যায় সেই সেক্টরের সাথে থাকা ও সেক্টর মুভমেন্টে সাথে যে যে স্টক রান করে তা দিয়ে প্রোটফোলিও সাজানো।
৭. মার্কেটের মন্দাভাব থাকলে নিজেকে সাইড লাইনে রাখাটাই উত্তম তাছাড়া জুন ক্লোজিং, ডিসেম্বর ক্লোজিং, মুদ্রানীতীর সেটেলমেন্ট, ২ ঈদের আগে, ব্যাংক ক্লোজিং এসব বিবেচনায় নিজেকে সতর্ক অবস্থানে নিরাপদ রাখা।
৮. কিছু ফান্ড দীর্ঘ মেয়াদি ইনভেস্ট করা সেক্ষেত্রে যে স্টকের প্রাইজ তলানিতে আছে সেই সব স্টকের ফান্ডামেন্টাল ভ্যালুর সাথে কিছু ইন্ডিকেটর ব্যাবহারের মাধ্যমে স্টকগুলো নির্বাচন করা। সে ক্ষেত্রে মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির শেয়ার আপনার পুজিকে নিরাপদ রাখতে পারে।
৯. মার্কেট ওপেন হওয়ার সাথে সাথে শেয়ার না কিনে ১১.০০- ১.০০ দিকে বাই করা সাধারণত এই সময় মার্কেট স্লো থাকে আর যদি আপনি এনালাইসিস জানেন মানে ব্রেক আউট পয়েন্ট বাহির করতে পারেন তাহলে এই ফরমুলাতে যাওয়ার দরকার নাই।
১০. লসে শেয়ার সেল করে নতুন শেয়ার বাই করলে ইকুয়িটি কমে যায় যা রিকভার করা কঠিন হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে হিসাব ঠিকঠাক করেই মাইগ্রেট করা।
১১. ঘন ঘন ট্রেড করা ভুল এতে যেমন বার বার কমিশন কাটা যায় তেমনি একটায় লাভ হলেও বাকি তিনটায় লস হয়। মনে রাখবেন শেয়ারবাজার থেকে লাভ করতে হলে বিনিয়োগকারী হতে হবে, ট্রেডার নয়। কারণ বিনিয়োগকারীর সাথে কখনই ডে ট্রেডার পারে না।
১২.বাফেট বলেন দুই পা ডুবায়ে পানির গভীরতা মাপতে যাবেন না। সমস্ত ডিম এক ঝুড়িতে রাখবেন না। কোন শেয়ার যদি সোনার ডিমও দেয়, তবুও সমস্ত টাকা এক শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন না। তাই আপনার প্রোটফোলিও ভিন্ন ভিন্ন সেক্টর ও স্টক রাখুন।
১৩. আপনি যদি মার্কেট চলাকালীন সময়ে অধিক ব্যাস্ত থাকেন বা মার্কেট মনিটরিং করার মত পর্যাপ্ত সময় না পান তাহলে অন্য ব্যাবসা আপনার জন্য অধিক প্রফিটেবল হতে পারে। তাই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করলে মার্কেট চলাকালীন সময়ে আপনার চোখ ল্যাপটপ স্ক্রিনে আটকা থাকতে হবে অথবা আপনাকে একজন এসিস্ট্যান্ট /মেন্টর নিয়োগ দিতে হবে যে সার্বক্ষণিক মার্কেট মনিটরিং করে আপনার বিনিয়োগকে নিরাপদ রাখবে।
১৪. আপনার বিনিয়োগ নিরাপদ রাখতে ৩টি বিষয়ে আপনার দখল থাকতে হবে টেকনিক্যাল এনালাইসিস, ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস, সাইকোলজিক্যাল এনালাইসিস। অনলাইন পোর্টাল বা প্রিন্ট মিডিয়ার সব নিউজ বিশ্বাস করা যাবে। ফেসবুকে পেইড/নন পেইড ধান্দাবাজদের কথায় শেয়ার বাই সেল করা যাবে না ও গ্যাম্বলারদের ফাদে আটকা পরা যাবে না। কেন স্টকটি হল্টেড, বায়ারলেস, বিগ ভলিউম, লো ভলিউম হলো তা সঠিক এনালাইসিস করেই এন্ট্রি নিতে হবে। সর্বোপরি আপনাকে মার্কেট রিড করার ক্ষমতা থাকতে হবে তাহকেই আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন খুব সহজে ও কম সময়ে।
===
বাজারে লস রিকভারে আমার ভাবনা ও কৌশলঃ
যদিও ইতিহাস বলে জেড জাংকের শেয়ারহোল্ডাররা দীর্ঘ মেয়াদে ভালই লাভ নিয়েই ঘরে ফেরেন। তবুও এই মুহূর্তে আমি রিস্কি শেয়ারে সম্পূর্ণ টাকা বিনিয়োগে পক্ষপাতি নই। কেননা আমি আগেই বলেছিলাম যেখানে বেশী লাভের সম্ভাবনা থাকে সেখানে ঝুঁকিও বেশী থাকে।যেমন আমি নিজেই ৭০০ Rahima food কিনে ধরা খেয়ে বসে আছি। একেক জনের ব্যবসায়ীক চিন্তাধারা ও কৌশল একেক রকম হয়ে থাকে। আমিও একটি মিশ্র কৌশল অনুসরণ করে চলছি।
তবে এই মুহূর্তে আমি সময়ের সদ্ব্যবহার করে চলাটাই উত্তম বলে মনে করি। যেমনটি আমি বলেছিলাম-
(১) যদি আপনার নুতন করে বিনিয়োগের কোন সুযোগ না থাকে তবে বর্তমান বাজারে কিছু তাৎক্ষণিক লাভ তুলে নেয়ার জন্য কোন শেয়ার কত টাকায় কেনা ছিল সেটা বিবেচনায় না নিয়ে আপনার হোল্ডিং এর অন্তত ২০% শেয়ার ছেড়ে দিয়ে সেই টাকা দিয়ে সম্ভাবনাময় কিছু শেয়ারে এন্ট্রি দিয়ে স্বল্প সময়ে কিছু লাভ তুলে নিতে পারেন।
(২) কোন হায় হায় কোম্পানির মালিকানা বদল, কোন বন্ধ কোম্পানির পুনঃউৎপাদন যাওয়ার সিদ্ধান্ত, বিএসইসি ও সরকারের কোন সিদ্ধান্ত যা নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ার দরে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এই জাতীয় নিশ্চিত খবরের ভিত্তিতে কোন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেও কিছু লাভ তুলে নেয়া যায়। সেটা যেই ক্যাটাগরির কোম্পানিই হোক না কেন। যার প্রমাণ মিলেছে বীমা খাতে এবং প্রভাব পরেছে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের ৩০% এর নিচে শেয়ারহোল্ড করা কোম্পানিগুলির শেয়ারের উপর।
(৩) বর্তমান বাজারে সেক্টর ওয়াইজ খেলাধুলা চলছে। তাই বলেছিলাম একেবারে একটি সেক্টরে সব টাকা বিনিয়োগ না করে দুই চারটা সম্ভাবনাময় সেক্টরের ৫/৭ টা শেয়ারে টাকা বিনিয়োগ করুন। দেখবেন প্রতি সপ্তাহেই আপনার হাতের শেয়ারগুলি নাড়াচাড়া করে কিছু লাভ তুলে নিতে পারছেন। এই সূত্রানুসারে বিভিন্ন সময়ে Adntel, Miracle, Metrospin,Fekdil, Npoly, Deshbondhu, Ghail, Anwar, Hrtex, Quasem, Ehl, Mldying, Amanfeed এই শেয়ারগুলির ক্রয় বিক্রয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। এইগুলি থেকে নিটিং করে বা বার বার কনভার্ট করে আশাকরি অনেকেই ভাল লাভ পেয়েছেন। তবে অনেকেই বলতে পারেন বা ভাবতে পারেন আরও কত সেক্টরের কত শেয়ারতো ধুম ধারাক্কা খেলাধুলা করলো সেগুলির নামতো বললেন না বা বলতে পারলেন না। তাদের অবগতির জন্য বলছি, আমার ব্যবসায়ীক গন্ডি খুবই সীমিত। ডিএসইর প্রায় অর্ধেকের বেশী শেয়ার (ব্যাংক,বীমা,লিজিং,ফিন্যান্স, মিঃফান্ড) আমি লেনদেন করি না এবং ঐসব শেয়ার নিয়ে কোন পরামর্শও দেই না। তারপরও আল্লাহ্ চাহেতো আমাদের শেয়ারগুলিতে যা পাচ্ছি তাতেই আলহামদুলিল্লাহ্।
(৪) বর্তমান বাজারে সেক্টর ওয়াইজ শর্ট গেইম চলছে। কাজেই নিশ্চিত হতে পারলে হাতে থাকা স্লো আইটেম যা ভবিষ্যতে ভাল করবে বলে আঁকড়ে ধরে আছেন সেইগুলি অন্য রানিং শেয়ারে কনভার্ট করে লেনদেন করে কিছু লাভ তুলে নেন, তারপর টান বুঝলে আবার আপনার শেয়ারে এন্ট্রি দিয়ে ঘরের ছেলের মত ঘরে ফিরে আসুন।
(৫) সম্ভাবনাময় শেয়ারগুলির মধ্যে যেগুলি ভাল লভ্যাংশ দেয় (ক্যাশ বা ক্যাশ + স্টক) সেইগুলির মধ্যে থাকার চেষ্টা করুন। তাহলে আল্লাহ্ না করুক সার্কিটে আঁটকে গেলেও সময়মতো ভাল একটা লাভ পাবেন ইন শা আল্লাহ্।
No comments:
Post a Comment