Thursday, January 2, 2025

বর্তমান বাজারের উদ্ভট পরিস্থিতি - BehaFin

 বর্তমান বাজারের উদ্ভট পরিস্থিতি


সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানের মূল কাজগুলো কি?
১। রুলস ও রেগুলেশন: বাজারের স্বার্থে আইন তৈরি করে সেই আইন প্রয়োগ করা। যেকোনো ধরনের আইন বিরোধী কাজ হলে সেগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ম্যানিপুলেশন, ফ্রড, ইনসাইডার ট্রেডিং, সার্কুলার ট্রেড বন্ধ করা। বাজারে বিভিন্ন পার্টির কার্যক্রম সুপারভাইজ করা।
২। বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা: বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ শিক্ষা দেয়া। বিনিয়োগ ও ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া। বিনিয়োগকারী ও বাজারের অন্যান্য পার্টিসিপেন্টদের মাঝের বিরোধ নিস্পত্তি করা। আমার অনেক বিরোধ তারা নিস্পত্তি করেছে। বিনিয়োগকারীরা যেনো প্রতারিত না হয় সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া
৩। বাজারের উন্নয়ন: বাজারে নতুন নতুন প্রডাক্ট নিয়ে আসা। যথাযথ অবকাঠামো তৈরি করা
৪। নেতৃত্ব এবং শাসন: এটা আভ্যন্তরীন বিষয় আর তাই এটা নিয়ে আর না লিখি।
এক কথায় একটি ন্যায্য, দক্ষ, এবং স্বচ্ছ সিকিউরিটিজ বাজার বজায় রাখা যা বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
তবে একটি কথা পরিষ্কারভাবে বলতে হয়, ইনডেক্সের নিয়ন্ত্রন, তথা ইনডেক্স বৃদ্ধি বা হ্রাস করা কখনোই চেয়ারম্যানের কাজ নয়।
বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
তিনি এসেছেন, সংস্কার করছেন। সংস্কার করতে গিয়ে সমস্যা হবে সেটাই স্বাভাবিক। দেড় মাসের কাজে আপাতত দৃষ্টিতে তিনি ব্যর্থ। ডিএসইর ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর নিয়োগ দিয়ে বাতিল করেছেন, আবার নিয়োগ দিয়ে আবার বাতিল করতে হয়েছে, এবং আবারও। একজন চেয়ারম্যান এসেই সবকিছু জেনে নিতে পারেন না। তাঁকে সময় দিতে হয়। তিনি একা কাজ করেন না, তার অধীনস্তদের নিয়েই তাঁকে কাজ করতে হয়। ডিএসইর ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর নিয়োগ নিয়ে তিনি একরকম প্রতারিত হয়েছেন। এখন তিনি আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। কমিটি করে করে যাদের উপর তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁরাও কাজে মনোযোগী না। কারণ তাদের দীর্ঘদিনের প্রমোশন আটকে আছে। এছাড়া ১২৭ জনের বিরুদ্ধে যে দলীয় নিয়োগের কথা উঠেছে সে ব্যাপারেও তাঁকে ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। এসইসির অনেকের ফাইল এখন দুদক চেক করতেছে। সব মিলিয়ে বিসেকে এক অস্থির অবস্থা। এমন অবস্থায় একজন ব্যাংকার কিভাবে এই প্রতিষ্ঠান চালাবে? একটি ব্যাংক চালানো আর পুরো দেশের একটি প্রতিষ্ঠান, শেয়ার বাজার চালানোর মাঝে হাজার হাজার পার্থক্য। যতটুকু খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি তিনি কিছুটা পাগলের মতো হয়ে গেছেন। এতটা প্রেশার নিয়ে হয়তো কখনো তাঁকে কাজ করতে হয়নি। সহায়তা না পেলে কারো পক্ষে কাজ করা সহজ নয়।
প্রথমে মাশরুর রিয়াজকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। কিছু বিরোধীতার কারণে তিনি সরে গেছেন। আল্লাহর ওয়াস্তে রাশেদ মাকসুদ সুযোগ পেয়েছেন। কোনো দলীয় ট্যাগ এখনো ঐভাবে চোখে পড়েনি। বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার যাকে সবাই ভয় পাচ্ছে। বড় বড় বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে আছে। তাদের চেয়ে বড় বিনিয়োগকারী, যারা অঘোষিত মার্কেট মেকার/ডেস্ট্রয়ার তাদের বেশিরভাগের বিও স্থগিত করা হয়েছে। সুযোগ পেলে তারা হয়তো বের হয়ে যেতো। এক পক্ষ থেকে ক্ষমতা অন্য পক্ষে যাবে। মাঝের এই ট্র্যান্জিশন পিরিয়ডে অনেক ঝামেলা হবে। প্রশ্ন হচ্ছে রাশেদ মাকসুদ কি তাঁর নিজের স্বার্থে কোনো কাজ করেছেন?
যে ২৮টি কোম্পানি জেড এ পাঠানো হয়েছে তা আইন অনুযায়ী পাঠানো হয়েছে, যে আইন তৈরি করা হয়েছে সেই ২০২০ সালে। যদিও বেশ কিছু ভালো কোম্পানিকে একই অপরাধে জেডে পাঠানো হয়নি। প্রশ্ন উঠতে পারে, এতদিন তবে কেনো পাঠানো হয়নি। উত্তরে বলতে হয় আগে আইন মানা হয়নি। সবাই গত কয়েকবছর ধরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বলে আসছে। একজন রাশেদ সেই কাজটিই করছেন। আগে আইন মানা হয়নি, এখন আইন মানানো হচ্ছে। একজন শিবলীর মতো তিনি আইনকে আটকে রাখছেন না, তিনি অযথা হস্তক্ষেপ করছেন না। দীর্ঘদিন চলা তদন্ত শেষ হয়েছে। তিনি সেই সময় এসেছেন, এসেই বিনিয়োগকারীদের খুশি করার মতো পেনাল্টি করেছেন। দুর্বল দৃষ্টিতে যেটা আসলে বুমেরাং হয়ে গেছে।
এই বাজারের পয়জন বেক্মিমকোকে যুগান্তকারী পেনাল্টি দেয়া হয়েছে। শোনা যাচ্ছে রেইস ও এল আর গ্লোবালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও একই রকম পেনাল্টিতে পড়তে পারে। যে কোনো সময়। হয়তো সামনের সপ্তাহেই। তারা এখন কি করবে? আগস্টে বিসেকের ডাইরেক্টর লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ মিছিল করেছিলো। তাঁর বিরুদ্ধে পত্রিকাতে লেখা হয়েছিলো। আমরা জানতে পেরেছি জনাব লুৎফুল কবির রেস এর তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। সুতরাং মিছিলগুলো কোথা থেকে এসেছিলো তা আমরা অনুমান করতে পারি।
একজন রাশেদ মাকসুদ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই কি তাহলে অপরাধ? মনে করিয়ে দিই ইনডক্সের উত্থান পতন করানো বিসেকের চেয়ারম্যানের কাজ নয়।
এটা করতে গিয়ে আমাদের মতো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর টাকা নাই হয়ে যাচ্ছে। যেটা সহ্য করা কঠিন বটে। তবে কি নিজের স্বার্থে আমি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে? নাকি অন্য কিছু? বিসেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে, সেই সংবাদে আমি পুলকিত হয়েছি, কিন্তু নিজের মনে হয়েছে এই পুলকিত হওয়া কি স্বার্থপরতা কিংবা অনৈতিকতা?
MD Azharul Hoque Sabuz
28 টি কোম্পানি জেডে পাঠিয়ে মালিকপক্ষের কি ক্ষতি হল। মালিকের শাস্তি না দিয়ে তিনি বিনিয়োগ কারীদেরই ক্ষতি করছেন
BehaFin
MD Azharul Hoque Sabuz রাশেদ মাকসুদ কি তার নিজের ইচ্ছামতো কিছু করছেন নাকি যে আইন আছে সে আইনের ভিতর থেকেই করছেন? ২০২০ সালের আইন যেটা আগের কমিশন প্রয়োগ করতে দেয়নি সেটাই এখন ডিএসই প্রয়োগ করেছে । রাসেদ মাকসুদ তাতে বাধা দেননি। আপনি চাচ্ছেন, আইনের প্রয়োগ না হয়ে আগের কমিশনের মতো এই কমিশনও বার বার হস্তক্ষেপ করুক?
MD Azharul Hoque Sabuz
BehaFin না। আগের আইন যে সবই ভালো তা কিন্তু নয়। আগেরটা তো ছিল ডাকাতের সর্দার। আপনিই বলুন কোম্পানি জেডে গেলে বিনিয়োগকারীদের কি লাভ হলো আর কোম্পানির মালিকের কি ক্ষতি হল। তারা যে শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলল তাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নাই? তারা কেন বোনাস দিচ্ছেনা। আগের সব চেয়ারম্যান তো মালিকপক্ষের সাথেই সমঝোতা করে শেয়ারবাজার লুটেছে। বতর্মান চেয়ারম্যান লুটতরাজের সাথে জড়িত সেটা বলিনি। বরং এমন কিছু করা উচিত যাতে সিদ্ধান্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পক্ষে যায়। লুটেরা মালিকদের শাস্তির আওতায় আনুক সেটা চাই
BehaFin
আমাদের এখানে অনেকগুলো রেগুলেটর
1. RJSC
2. DSE
3. BSEC
4. BB
কিছু কিছু আইন আছে সাংঘর্ষিক। এমন অনেক আইন আছে একটি করতে গেলে আরেকটি সমস্যা হয়। ২০২০ সালে যখন জেড এ যাওয়ার আইনটি করা হলো তখনতো বাজারেই ছিলেন। এটা যদি বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ হয় তবে তখন কেনো আপনারা দাবি তুলেননি। উল্টো তখন সবাই খুশিই হয়েছিলো। কারণ তখন তা বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ছিলো। সেই আইনের কারণে অনেক কোম্পানি জেড থেকে A ও B তে এসেছিলো। সেই খুশিতে কেউ কথা বলেনি। এখন সেই আইনেই বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্থ হলো। যেই আইন ২০২০ সালে বিনিয়োগকারীর পক্ষে ছিলো সেটাই আজ বিনিয়োগকারীর বিপক্ষে।
২০২০ সালে আরেকটি আইন তৈরি করা হয়েছিলো। জেডে যাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে বোর্ড পুনর্গঠন করার আইন। সেই আইন অনুযায়ী এইসব কোম্পানির বোর্ড ভেঙ্গে দিয়ে বিনিয়োগকারীদের থেকে বেছে নিয়ে নতুন বোর্ড তৈরি করা। এর চাইতে বড় শাস্তি মালিকদের আর কি হতে পারে? রাশেদ সেটাও করবে বলে বিশ্বাস রাখি, কিন্তু তার আগেই আপনারা পতদ্যাগ চাচ্ছেন! সেটা কতটুকু যৌক্তিক!
আইন আছে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। যদি সে আইন ক্ষতিকারক হয় তবে তা পরিবর্তন করতে হবে। পরিবর্তন রাশেদ একা করতে পারেন না। পাবলিক অপিনিয়নের দরকার হয়। কিন্তু যতক্ষণ আইন আছে ততক্ষণ তার প্রয়োগ করতে হবে। নাইলে আমরাই আবার বলবো আইনের প্রয়োগ নাই, আইনের শাসন নাই। আইনের প্রয়োগ করতে না দেয়াটা কি অপরাধ নয়? সেই অপরাধে কি আমরা জড়িয়ে যাচ্ছি?

No comments:

Post a Comment

আপট্রেন্ডে প্রাইস বাড়তে থাকলে ভলিউম বাড়ে। ডাউনট্রেন্ডে প্রাইস কমতে থাকলে ভলিউম বাড়ে। এই ভলিউম যখন ড্রাই হবে, তখন অনুমান করা হয় যে পতন থেমেছে। তার মানে এই নয় যে তখন থেকেই ঘুরবে। বাজার ঘুরে যাওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়

আপনার উক্তিটিতে বাংলাদেশের স্টক মার্কেটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। এখন একে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা যাক— ১. আপট্রে...