বিশ্লেষণ নাকি খবরের আকর্ষণ?
- স্টিভ জবস একবার অসুস্থ হলেন, সেই খবরে অ্যাপলের শেয়ারের দর পড়ে গেলো!
- সৌদি আরবের রাজ পরিবারে কোন্দল, সেই খবরে তেলের শেয়ারের দর পড়ে গেলো, তারপর বিশ্বের শেয়ারবাজারের পতন!
- বেগম খালেদা জিয়াকে অ্যারেস্ট করা হবে, সেই খবরেই বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে পতন দেখা গেলো!
- সাংবাদিক সম্মেলনে রোনালদো কোক সরিয়ে পনির বোতল নিলেন, কোকাকোলার শেয়ারের ১.৬% দর পড়ে গেলো!
”শেয়ার বাজার হচ্ছে খুবই সেন্সিটিভ, এখানে যে কোনো সামান্য কারণেই অনেক বড় পতন হতে পারে।”
এই পর্যন্ত যারা পড়লেন, পড়ে ভাবলেন অনেক জ্ঞান অর্জন হলো! পরে অন্য কোথাও আলোচনা করতে গিয়ে এই কথাগুলোই আপনার পরিচিতজনকে বলবেন। আপনার পরিচিত জনও জ্ঞান অর্জন করবে। এই লেখাটা যদি ব্রিটেনের ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশ পায় তবে সারা পৃথিবীর অনেকেই এই জ্ঞান অর্জন করবে। তবে এটা নিজের মস্তিষ্ক প্রসূত কোনো জ্ঞান নয় বরং এই সবই মুখস্ত!
আসলে কি হয়?
কোকাকোলার শেয়ারের দর কি কেবল উঠতেই ছিলো, আগে কি কখনও পতন হয়নি? এর আগে আরও অনেক বড় পতন হয়েছে, তখন কিন্তু এত বড় করে সংবাদ ছাপা হয়নি। এক ঘন্টায় ১.৬% দর পড়ে যাওয়াটা কি আসলেই বিরাট কোনো খবর, নাকি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা?
২০১৭ সালে Ransomware এর আক্রমনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শিপিং কোম্পানি মার্কস লাইনের প্রায় ৪ হাজার কম্পিউটার অকেজো হয়ে পড়লে ঐ ৪ হাজার ইম্প্লয়ীর কাজ থেমে যায়। পুরো এক মাসেও পুরোপুরি রিকভার করতে পারেনি, তারপরেও ডেনমার্কের বাজারে কোম্পানির শেয়ারের দরের সেই পরিমান পতন লক্ষ্য করা যায়নি। যে পতন হয়েছিলো তা ছিলো ডাউন ট্রেন্ডের ধারাবাহিকতা! উল্লেখ্য মার্কস লাইন হচ্ছে ড্যানিস কোম্পানি, তাই ডেনমার্কের বাজারের কথা বললাম!
তবে কেনো এমন বলা হয়? কারণ এগুলো হচ্ছে বিশ্লেষণ, মৌলভিত্তিক বিশ্লেষণ!
Fundamental Analysis = Financial Analysis + Other Information.
এখানে Other Info বলতে, মুদ্রাস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক আরোপিত কোনো নিয়মের পরিবর্তন, সুদের হার, পরিচালকদের চরিত্র, কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইত্যাদি বহুবিধ তথ্য, যার মধ্যে উপরে উল্লেখিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ! এই তথ্যগুলো হচ্ছে Unknown Variable, যার সংখ্যা অগণিত। এই Unknown variable এর পিছনে ছুটে যে সময় অতিবাহিত হবে তার চেয়ে Known variable এর পিছনে ছুটে কি অপেক্ষাকৃত বেশি সুফল পাওয়া সম্ভাবনা আছে বলেই মনে করি। এই Known variable হচ্ছে Volume ও Price! আমার কাছে মোদ্দা কথা হচ্ছে কারেকশন একটি অবশ্যম্ভাবী বিষয়, যার জন্য কোনো রোনাল্দোর আবির্ভাব হতে হয়না। বরং রোনালদোদের আগমণ ঘটিয়ে আকর্ষণীয় খবর তৈরি করা হয়! রোনালদোর এই বিষয়টি একটি ঘটনা, সেটা শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পর্ক করে খবর তৈরি করাটা আমার কাছে অনর্থক!
এই করোনাতে ব্যবসা বন্ধ, শিপমেন্ট বন্ধ অথচ চিত্রটি থেকে দেখা যাচ্ছে সেই ২০২০ এর মার্চ থেকে মার্কস লাইনের শেয়ারের দর কেবল বেড়েই চলেছে! কিন্তু কেনো ভাই?
====
উদাহরণ হিসাবে: WMSHIPYARD
নিউজ-১ "প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা।"
নিউজ-২ "প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের ব্যর্থতায় টানা পাঁচ বছর লোকসানে"
নিউজ-৩ "খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত --, সম্পদ নিলামে"
৬২.৬০ টাকার শেয়ার যখন ৫.৬০ টাকায় আসলো তখন নিউজ আসে! "ঘুরে দাঁড়াচ্ছে --- ১৪ মাসে ৮ জাহাজ রপ্তানির পরিকল্পনা"
আর এভাবেই কোম্পানীগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বোকা বানিয়ে লুটপাট করে!


No comments:
Post a Comment