১. “বাজারের সাপোর্ট পেতেও পারে, আবার নাও পেতে পারে” — বাজারে নিশ্চিত কিছু নেই
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারদর কখনই একটি স্থায়ী নিয়মে চলে না। বাজারের “সাপোর্ট লেভেল” বা “রেজিস্ট্যান্স” অনেক সময় কাজ করে, আবার অনেক সময় ভেঙেও যায়।
এটি বোঝায়— বাজারে পূর্বধারণা নয়, পর্যবেক্ষণই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
অর্থাৎ, আপনি চার্টে একটি সাপোর্ট লেভেল আঁকলেন বলেই বাজার সেই জায়গায় থামবে—এই নিশ্চয়তা নেই। তাই বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারী সবসময় অপেক্ষা করেন সিগন্যাল বা কনফার্মেশন এর জন্য।
সাপোর্ট টিকে আছে কিনা, ট্রেন্ড রিভার্স হয়েছে কিনা—এগুলো যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
২. “বাজার পড়লেও আশা তৈরি হয়েছিলো, কিন্তু টিকেনি” — বাজারে আশা নয়, শৃঙ্খলাই মূল শক্তি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট সেক্টরে (যেমন ইন্সুরেন্স, ব্যাংক, ফার্মা) হঠাৎ আশাবাদ তৈরি হয়।
কিন্তু তা বেশিরভাগ সময় সেন্টিমেন্ট-চালিত, মৌলিক শক্তির উপর নয়।
ফলে বিনিয়োগকারী যদি সেই সাময়িক আশার ফাঁদে পড়ে সিদ্ধান্ত নেয়, পরে দেখা যায় বাজার আবার নেমে গেছে।
এই লেখক বলছেন, “আমি আজ দেখিনি, তাই নিউট্রাল আছি।”
এটা একটি প্রশংসনীয় মানসিক নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ।
কারণ, বাজারের ওঠানামা দেখলে মানুষের অবচেতন মন লোভ বা ভয় দ্বারা প্রভাবিত হয়, যা ভুল সিদ্ধান্তের জন্ম দেয়।
৩. “ট্রেড আওয়ারে বাজার না দেখা” — আবেগকে দূরে রাখার কৌশল
বাংলাদেশি খুচরা বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ট্রেড আওয়ারে অ্যাপে বসে বাজারের প্রতিটি টিক মুভমেন্ট পর্যবেক্ষণ করেন।
এর ফলে তারা ছোটখাটো পরিবর্তনেই উত্তেজিত বা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
এমন অবস্থায় মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা খুব সহজ।
লিজেন্ড ট্রেডারদের “অ্যাপ আনইনস্টল” করার পরামর্শ আসলে একটি মনস্তাত্ত্বিক সুরক্ষা কৌশল।
যদি বাজার নিম্নমুখী হয়, তাহলে ক্রমাগত দাম পড়তে দেখা মানে নিজের আত্মবিশ্বাস হারানো।
বরং দূরে থেকে বাজারকে তার নিজের গতিতে চলতে দেওয়া এবং পরে পরিসংখ্যান বা চার্টে ঠান্ডা মাথায় পর্যবেক্ষণ করা অনেক কার্যকর।
৪. “অবচেতন মন ট্রেড করতে প্ররোচিত করতে পারে” — ট্রেডিংয়ে মনের যুদ্ধ
এই অংশটি অত্যন্ত গভীর।
ট্রেডিং শুধুমাত্র বিশ্লেষণ নয়, এটি নিজের মনের সঙ্গে লড়াই।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অনেক বিনিয়োগকারী যুক্তি দিয়ে বলেন “আজ ট্রেড করব না,” কিন্তু দাম বাড়তে শুরু করলে তারা অবচেতনে চাপ অনুভব করেন—“এখনই না কিনলে মিস হয়ে যাবে।”
এটাই FOMO (Fear of Missing Out)।
এই মানসিক দুর্বলতাই অধিকাংশ ক্ষতির মূল কারণ।
৫. “বাজার ভালো হলে কনফার্মেশন পাওয়ার আগেই বোঝা যায়” — অভিজ্ঞতার শক্তি
এখানে লেখক বলতে চেয়েছেন,
অভিজ্ঞ ট্রেডার বাজারের আচরণ থেকেই বুঝতে পারেন কবে পরিবর্তন শুরু হচ্ছে।
তারা চিৎকার করে ওঠে এমন সংকেতের জন্য অপেক্ষা করেন না, বরং দামের স্থিতি, ভলিউম, ও সেক্টর রোটেশনের আচরণ দেখে বুঝে ফেলেন বাজার ঘুরছে কিনা।
এই স্তরের উপলব্ধি আসে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।
৬. সারসংক্ষেপ (বাংলাদেশি বাস্তবতায় প্রয়োগযোগ্য শিক্ষা)
| শিক্ষা | বাস্তব প্রয়োগ |
|---|---|
| ১. বাজার অনুমান করা যায় না | আগে থেকেই পরিকল্পনা নয়, কনফার্মেশন দেখে কাজ করুন |
| ২. অ্যাপ সারাক্ষণ দেখা ক্ষতিকর | ট্রেডিং থেকে মানসিক দূরত্ব রাখুন |
| ৩. অবচেতন মনের প্ররোচনা চিনুন | নিজের মানসিক ট্রিগার চিহ্নিত করুন |
| ৪. সাপোর্ট/রেজিস্ট্যান্সে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস নয় | প্রাইস অ্যাকশন ও ভলিউম দিয়ে নিশ্চিত হন |
| ৫. অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ থেকে আসে | ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করুন, বাজারের ভাষা শিখুন |
শেষ কথা
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সফল বিনিয়োগকারী বা ট্রেডার সে-ই,
যে বাজারের গতি নয়, নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
বাজার সর্বদা সুযোগ দেয়, কিন্তু সেই সুযোগ কেবল সেই বিনিয়োগকারীর হাতে আসে—যে অপেক্ষা করতে জানে।
No comments:
Post a Comment