Friday, October 17, 2025

"The game taught me to react and not to anticipate. To react to facts as they developed in the market and not to preconceive ideas. I learned there was no great money to be made merely in anticipation."- Jesse Livermore

 

মূল ভাব:

“বাজারে টিকে থাকতে হলে অনুমান নয়, বাস্তব তথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”


১. অনুমানের বদলে বাস্তবতাকে অনুসরণ করা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অনেক বিনিয়োগকারী “এই শেয়ার উঠবে” বা “ওই কোম্পানি ভালো কিছু ঘোষণা দেবে”—এই ধরনের ধারণার উপর ভিত্তি করে আগেই কেনাবেচা করে ফেলেন।
কিন্তু লিভারমোর বলছেন, এটি একটি ভুল পদ্ধতি
কারণ বাজার কখনও কারও ধারণা অনুযায়ী চলে না, বরং চলে বাস্তব চাহিদা, সরবরাহ, কোম্পানির পারফরম্যান্স, ও অর্থনৈতিক পরিবেশের উপর ভিত্তি করে।

👉 উদাহরণ:
কোনো বিনিয়োগকারী যদি কেবল “ডিভিডেন্ড দেবে” এই আশায় শেয়ার কিনে রাখেন, কিন্তু কোম্পানি প্রত্যাশার চেয়ে কম ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে—তাহলে দাম কমে গিয়ে ক্ষতি হবে।
অন্যদিকে, যে বিনিয়োগকারী খবর প্রকাশের পর বাজারের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়, সে বাস্তবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে।


২. বাজারের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখানো

লিভারমোরের “react to facts as they developed” কথাটি বোঝায়,
যখন বাজারে কোনো নতুন তথ্য আসে—যেমন EPS, AGM খবর, বা সরকারি নীতিমালা পরিবর্তন—তখন সেটার প্রভাব কেমন হচ্ছে তা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

👉 উদাহরণ:
যদি দেখা যায় ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট তৈরি হচ্ছে, তখন পুরো সেক্টরের দাম চাপের মধ্যে যাবে।
সেক্ষেত্রে আগে থেকে “ব্যাংক শেয়ার ভালো” ধারণা ধরে রাখলে ক্ষতি হবে। বরং নতুন বাস্তবতায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিনিয়োগ পজিশন সামঞ্জস্য করা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।


৩. বাজার অনুমান করে নয়, যাচাই করে চলে

বাংলাদেশে বহু নতুন বিনিয়োগকারী “টিপস” বা “গুজব” এর উপর নির্ভর করেন।
লিভারমোরের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি বাজারে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় বাধা।
তিনি বলেন, “There was no great money to be made merely in anticipation.”
অর্থাৎ, শুধুমাত্র ধারণা বা প্রত্যাশার উপর নির্ভর করে বড় লাভ সম্ভব নয়।
বড় লাভ আসে তখনই, যখন আপনি বাজারের প্রকৃত গতিপথে নিজের সিদ্ধান্ত মিলিয়ে নিতে পারেন।


৪. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রয়োগযোগ্য শিক্ষা

  • খবরের প্রতিক্রিয়া দেখুন, আগে থেকেই অনুমান করবেন না।

  • দাম, ভলিউম ও বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করুন।

  • নিজের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হোক তথ্য, ট্রেন্ড, ও আচরণগত সংকেত, অনুমান নয়।

  • বাজার ভুল হলে নিজের মত পরিবর্তনে দ্বিধা করবেন না।


সংক্ষেপে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সফল হতে হলে “পূর্বধারণা” নয়, “পরিস্থিতি-নির্ভর প্রতিক্রিয়া” দরকার।
বাজার আপনাকে শেখাবে—কে ধৈর্য ধরতে পারে, কে বাস্তব দেখতে পারে, এবং কে নিজের অহং থেকে মুক্ত থেকে শেখে।

==========================

বাজার মনোবিজ্ঞান: বাস্তবকে দেখা, অনুমান নয়

(বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে জেসি লিভারমোরের শিক্ষা)

“The game taught me to react and not to anticipate. To react to facts as they developed in the market and not to preconceive ideas. I learned there was no great money to be made merely in anticipation.”
Jesse Livermore


১. অনুমানভিত্তিক মানসিকতা: বাংলাদেশের সাধারণ প্রবণতা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অনেক বিনিয়োগকারী এখনো “এই শেয়ার উঠবে”, “ওই কোম্পানির খবর আসছে” — এই ধরনের ধারণার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেন।
এটি একটি স্বাভাবিক মানবিক প্রবণতা, কারণ সবাই দ্রুত লাভের আশায় ভবিষ্যৎ অনুমান করতে চায়।
কিন্তু জেসি লিভারমোর বলেছিলেন, বাজারে বড় ক্ষতি হয় অনুমানের কারণে, আর বড় সাফল্য আসে বাস্তবতার সাথে চলতে পারলে।


২. বাজার বাস্তবতাকে বোঝা মানে তথ্যের সঙ্গে থাকা

বাজার প্রতিদিন নতুন তথ্য দেয়—কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, প্রান্তিক ফলাফল, সেক্টরভিত্তিক নীতি পরিবর্তন, ব্যাংক সুদের হার, কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি।
বিনিয়োগকারী যদি এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বাজারের প্রতিক্রিয়া বোঝে, তাহলে সে অনুমান নয়, বাস্তব আচরণের উপর নির্ভর করছে।

👉 উদাহরণ:
একটি সিমেন্ট কোম্পানির কাঁচামালের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে তার মুনাফা কমবে, এটি একটি বাস্তব সংকেত।
যে বিনিয়োগকারী এটি বুঝে আগে থেকেই প্রস্তুত হয়, সে বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে, ভবিষ্যৎ অনুমান করছে না—বরং তথ্যের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।


৩. আবেগ ও গুজবের ফাঁদ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসগুজব অনুসরণে।
অনেকেই ভাবে “এটা আমার জানা তথ্য”, “এই কোম্পানি তো নিশ্চিত বাড়বে”—কিন্তু বাজার কখনও কারও ব্যক্তিগত ধারণাকে সম্মান করে না।
জেসি লিভারমোরের মতে, বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় শত্রু তার নিজের ‘ধারণা’।
তথ্য ও চার্ট যা বলে, সেটাই সত্য; মন যা বলে, তা নয়।


৪. ধৈর্য ও শৃঙ্খলার ভূমিকা

বাজারে প্রতিক্রিয়া মানে তাৎক্ষণিক অস্থিরতা নয়।
লিভারমোরের মতে, বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারী বাজারের সংকেত দেখে, সময় নেয়, তারপর সিদ্ধান্ত নেয়।
যখন বাজার দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়—তখনই পদক্ষেপ নেয়, আগেই অনুমান করে না।

👉 আমাদের অনেকেই বাজার একটু উঠলেই তাড়াহুড়ো করে কিনে ফেলি, আবার সামান্য নামলেই আতঙ্কে বিক্রি করে দিই।
এতে লাভ নয়, ক্ষতিই বাড়ে।
সফল বিনিয়োগকারী জানে—বাজারের প্রতিটি ওঠানামা সুযোগ নয়; কিছু কেবল শব্দ।


৫. বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বাস্তব প্রয়োগ

  • গুজব নয়, যাচাই করা তথ্যের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিন।

  • বাজারের ট্রেন্ড বদলালে নিজের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করুন।

  • “আমি ঠিক”—এই মানসিকতা ত্যাগ করুন; বাজারের কথাই শেষ কথা।

  • ট্রেড করার আগে পরিকল্পনা করুন, ক্ষতির সীমা নির্ধারণ করুন।

  • দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে চাইলে অহং নয়, তথ্য আপনাকে পরিচালিত করুক।


৬. উপসংহার

জেসি লিভারমোরের শিক্ষাটি আজও প্রাসঙ্গিক, বিশেষত বাংলাদেশের মত উদীয়মান বাজারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সফল হতে হলে অনুমান নয়, পরিস্থিতি-নির্ভর প্রতিক্রিয়া শিখতে হবে।

কারণ, বাজার কখনও আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে আসে না—এটি কেবল তাদের পুরস্কৃত করে, যারা বাস্তব দেখে, ধৈর্য রাখে, আর নিজের ভুল দ্রুত সংশোধন করতে জানে।

===========================

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE)-এর ট্রেড সেটেলমেন্ট পদ্ধতি (T+2, T+3)—যা সত্যিই জেসি লিভারমোরের “react, not anticipate” দর্শনের সরাসরি প্রয়োগকে কিছুটা সীমাবদ্ধ করে।

তবে এখানে আসল বিষয়টি “লেনদেনের সময়” নয়, বরং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক পদ্ধতি বা মনোভাব (trader’s mindset)
চলুন বিষয়টি বিশ্লেষণ করি:


১. DSE-তে T+2 বা T+3 পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে, আপনি আজ শেয়ার কিনলে সেটি সাধারণত T+2 বা T+3 দিন পর আপনার BO একাউন্টে যোগ হয়।
অর্থাৎ, আপনি intraday (একই দিনে কেনা-বেচা) করতে পারেন না।
তাই মার্কেটের মুহূর্তিক পরিবর্তনে লেনদেনের প্রতিক্রিয়া দেওয়া এখানে সীমিত।

কিন্তু, লিভারমোরের উক্তিটি মূলত এই অর্থে নয় যে “একদিনে বাজার ঘুরে দাঁড়ালে সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেলো বা বেচে ফেলো।”
তিনি বলতে চেয়েছেন—তথ্য, ট্রেন্ড ও বাস্তব ঘটনার প্রতি মানসিকভাবে খোলা ও নমনীয় থাকতে হবে।


২. বাস্তব প্রতিক্রিয়া মানে তাৎক্ষণিক লেনদেন নয়

DSE-র প্রেক্ষাপটে “react to facts” মানে হলো—
বাজারের খবর, কোম্পানির পারফরম্যান্স, বা সেক্টরগত পরিবর্তনের পর আপনার বিনিয়োগ কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করা।

👉 উদাহরণ:
যদি কোনো কোম্পানির প্রান্তিক ফলাফল প্রকাশের পর EPS অর্ধেকে নেমে যায়,
তাহলে আপনি সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করতে পারবেন না ঠিকই,
কিন্তু পরবর্তী কার্যদিবসে বাজারের দিকনির্দেশ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন—এই শেয়ারটি ধরে রাখবেন কি বিক্রি করবেন।

এটাই “reacting to facts” —
অর্থাৎ, আপনি নতুন তথ্যকে গ্রহণ করছেন এবং নিজের অবস্থান সামঞ্জস্য করছেন,
কোনো পূর্বধারণা ধরে রাখছেন না।


৩. “Anticipate” মানে আগেভাবে অনুমান, সেটাই বিপদজনক

বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই গুজব বা “ইনসাইড খবর” শুনে আগে থেকেই অনুমান করেন—
“এই শেয়ার উঠবে”, “ওই কোম্পানি ডিভিডেন্ড দেবে।”
এখানেই সমস্যা।

লিভারমোরের বক্তব্য হলো—আপনি কখনোই নিশ্চিত হতে পারেন না বাজার কী করবে।
তাই আগেভাবে অনুমান করে ঢুকবেন না; বরং যখন ঘটনাটি ঘটে, তখন তার প্রভাব যাচাই করে প্রতিক্রিয়া দিন।

T+2 সিস্টেমেও এটি সম্ভব—কারণ আপনি

  • খবর প্রকাশের পর দাম ও ভলিউমের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারেন,

  • ট্রেন্ড কনফার্ম হলে পরবর্তী ট্রেডিং দিনে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এতে বাজারের বাস্তব প্রবাহের সঙ্গে থাকা সম্ভব, যদিও “একদিনে” প্রতিক্রিয়া দেওয়া যায় না।


৪. DSE-তে লিভারমোরের দর্শনের প্রযোজ্য ব্যাখ্যা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তার উক্তিটিকে এভাবে পুনর্ব্যাখ্যা করা যায়—

“শেয়ার বাজারে সফলতা আসে তখনই, যখন আপনি তথ্য প্রকাশের আগে অনুমান না করে, বরং তথ্য প্রকাশের পর বাজারের আচরণ বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেন।”

এখানে “react” মানে হলো—

  • নিজের ধারণা পরিবর্তনে সাহসী হওয়া,

  • নতুন ডেটা দেখে পজিশন সমন্বয় করা,

  • “আমি জানি বাজার উঠবে”—এই অহং ত্যাগ করা।


৫. উপসংহার

DSE-তে তাৎক্ষণিক ট্রেডিং সীমাবদ্ধ হলেও, মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া (psychological reaction)তথ্য-নির্ভর কৌশলগত সমন্বয় (strategic reaction) পুরোপুরি সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়।
এটাই জেসি লিভারমোরের মূল শিক্ষা—
বাজারে টিকে থাকতে হলে আপনাকে “চিন্তার দিক থেকে” চটপটে হতে হবে, “লেনদেনের দিক থেকে” নয়।


T+2 যুগে জেসি লিভারমোর: ঢাকার বাজারে বাস্তব প্রতিক্রিয়ার শিক্ষা

“The game taught me to react and not to anticipate. To react to facts as they developed in the market and not to preconceive ideas. I learned there was no great money to be made merely in anticipation.”
Jesse Livermore


১. উক্তির মূল দর্শন

বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ট্রেডার জেসি লিভারমোর বাজার সম্পর্কে যে শিক্ষা দিয়েছিলেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর মূল বার্তা ছিল—
বাজারে সফল হতে চাইলে অনুমান নয়, বাস্তব তথ্যের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে।
অর্থাৎ, বাজার যেদিকে যাবে, সেই বাস্তবতার সঙ্গে নিজের অবস্থান সামঞ্জস্য করতে হবে।

তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “বাজার থেকে বড় মুনাফা আসে না অনুমান থেকে; আসে বাস্তবতার প্রতি শৃঙ্খলাপূর্ণ প্রতিক্রিয়া থেকে।”


২. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাস্তবতা: T+2 পদ্ধতির সীমা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) বর্তমানে লেনদেনের সেটেলমেন্ট পদ্ধতি হলো T+2 বা T+3
অর্থাৎ, আজ আপনি শেয়ার কিনলে সেটি আপনার একাউন্টে যুক্ত হয় ২ বা ৩ কার্যদিবস পরে।
এই ব্যবস্থায় intraday trading (একই দিনে কেনা-বেচা) সম্ভব নয়।

তাই অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—
যখন বাজারের পরিবর্তনে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া যায় না, তখন “react to facts” নীতি কীভাবে কার্যকর হবে?

এর উত্তর হলো—
লিভারমোরের “reaction” কেবল লেনদেনের গতি নয়, বরং চিন্তার গতি
তিনি বলতে চেয়েছেন, আপনি যেন নতুন তথ্য বা বাস্তব পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিকভাবে নমনীয় থাকেন—
পুরনো ধারণা আঁকড়ে না ধরে, বাজার যা দেখায় তা মেনে নিতে প্রস্তুত থাকেন।


৩. প্রতিক্রিয়া মানে তাৎক্ষণিক বিক্রি নয়, বরং কৌশল পরিবর্তন

ঢাকার বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখানোর মানে হলো—
বাজারে নতুন তথ্য এলে নিজের কৌশল পুনর্বিবেচনা করা।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক:
একটি কোম্পানির ত্রৈমাসিক রিপোর্টে EPS হঠাৎ কমে গেছে।
আপনি সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করতে পারবেন না, কারণ সেটেলমেন্টের নিয়ম আছে।
কিন্তু আপনি তথ্যের বিশ্লেষণ, বাজারের প্রতিক্রিয়া ও ভলিউম ট্রেন্ড দেখে প্রস্তুত হতে পারেন—
পরবর্তী কার্যদিবসে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে পারেন।

এটাই হলো “react to facts”—
ঘটনা ঘটার পর বাস্তব বিশ্লেষণ করে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া,
পূর্বধারণা বা গুজবের উপর নির্ভর না করা।


৪. অনুমানভিত্তিক মানসিকতার ঝুঁকি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অনেক বিনিয়োগকারী এখনো “এই শেয়ার উঠবে”, “ওই কোম্পানি বড় ঘোষণা দেবে”—এই ধরনের ধারণায় বিনিয়োগ করেন।
এই অভ্যাসই সবচেয়ে ক্ষতিকর।
কারণ বাজার কখনও কারও ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে সম্মান করে না; এটি কেবল তথ্য ও চাহিদা-সরবরাহের বাস্তবতা অনুযায়ী চলে।

লিভারমোরের মতে, আগেভাবে অনুমান করে বাজারকে ধরার চেষ্টা করা মানে নিজের টাকা নিয়ে জুয়া খেলা।
তিনি বলেছিলেন, “বাজারে আমার মতামত ভুল প্রমাণিত হলে আমি বাজারকে দোষ দিই না—নিজেকে সংশোধন করি।”


৫. বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে প্রযোজ্য শিক্ষা

ঢাকার বাজারে লিভারমোরের দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা তিনটি স্তরে পাওয়া যায়—

  1. তথ্যনির্ভর মানসিকতা:
    বাজারে নতুন তথ্য এলে তা বিশ্লেষণ করুন, গুজবে কান দেবেন না।

  2. নমনীয়তা ও ধৈর্য:
    নিজের মতামত ভুল প্রমাণিত হলে দ্রুত স্বীকার করুন।
    বাজারের সাথে চলুন, বিরোধিতা করে নয়।

  3. কৌশলগত প্রতিক্রিয়া:
    T+2 ব্যবস্থাতেও আপনি ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—
    প্রথমে পর্যবেক্ষণ, তারপর দিকনির্দেশ নিশ্চিত হলে কার্যকর পদক্ষেপ।


৬. উপসংহার

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব না হলেও, বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত প্রতিক্রিয়া দেওয়া সবসময়ই সম্ভব।
লিভারমোরের শিক্ষা তাই আজও সময়োচিত—
বাজারে সাফল্য আসে তাদের হাতে, যারা বাস্তবের প্রতি সতর্ক,
যারা তথ্য দেখে শিখে, এবং নিজের ভুল সংশোধন করতে জানে।

অনুমান আপনাকে ব্যস্ত রাখে;
প্রতিক্রিয়া আপনাকে বাঁচিয়ে রাখে।

 

No comments:

Post a Comment

আপট্রেন্ডে প্রাইস বাড়তে থাকলে ভলিউম বাড়ে। ডাউনট্রেন্ডে প্রাইস কমতে থাকলে ভলিউম বাড়ে। এই ভলিউম যখন ড্রাই হবে, তখন অনুমান করা হয় যে পতন থেমেছে। তার মানে এই নয় যে তখন থেকেই ঘুরবে। বাজার ঘুরে যাওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়

আপনার উক্তিটিতে বাংলাদেশের স্টক মার্কেটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। এখন একে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা যাক— ১. আপট্রে...