একটি শেয়ারর দীর্ঘ পতন শেষ হবার পরপরই সাধারনত রিভার্সাল হয় না। তাই ডাউনট্রেন্ড শেষ করলেই এন্ট্রি দেয়া ঠিক না। কারন কিছুদিন পর পূনরায় ডাউনমুভ শুরু হতে পারে কিম্বা অনেকদিন একটি রেঞ্জের মধ্যে থাকতে পারে। তাই রিভার্সাল এর কনফার্মেশন ছাড়া পজিসন নেয়া ঠিক হবে না। অনেকে ডাউনট্রেন্ড শেয় হওয়া মাত্র এন্ট্রি দেন, যা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে যে শেয়ারগুলি ডাউনট্রেন্ড শেষ করেছে সেগুলি পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। আরেকটি কথা - আপট্রেন্ড এ থাকা কোন শেয়ারের কয়েকটি রিট্রেসমেন্ট (কারেকশন) পর্যায় থাকে, যার শেষে আবার আপমুভ করে। এগুলিক পুলব্যাকও বলা হয় এবং একে পতন ভেবে ভুল করা যাবে না।
পতনের প্রকারভেদ : সাধারন পাবলিকের মধ্যে দুর্বল বা ভীরু প্রকৃতির লোকের হাতে থাকা শেয়ারকে বলা হয় ফ্লটিং শেয়ার (floating shares) এবং এ শেয়ার হাতবদল প্রক্রিয়া শেষ না হওয় পর্যন্ত পতন অব্যাহত থাকে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েকদিন হতে কয়েক মাসও লাগতে পারে। স্থায়িত্বকাল অনুযায়ী পতনকে ২ ভাগে ভাগ করা যায় :
ক. তিলে তিলে মৃত্যু (Gradual Death) : অনেকদিন যাবত ধারাবাহিকভাবে অল্প অল্প করে পতন হতে থাকে। থেকে থেকে ছোট ছোট উত্থান হতে পারে কিন্তু টেকসই হয় না। এক পর্যায়ে ফ্লটিং শেয়ারের হাতবদল শেষ হয় এবং পতনও থেমে যায়। এ ধরনের পতনে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারদের মধ্যেই শেয়ার হাতবদল হয় এবং বিভিন্ন প্রাইস লেভেলে তারা আটকে (locked-in) থাকে। এ ধরনের পতনের পর উত্থান হতে সাধারনত অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে। কারন পতন শেষ হবার পর স্মার্ট মানি আস্তে আস্তে কালেকশন শুরু করে। তবে লো-পেইড আপ শেয়ারগুলি পতন শেষেই উত্থান হতে পারে।
Gradual Death: BD lamps after declaration.
খ. আকস্মিক মৃত্যু (Sudden Death) : কোন খারাপ ডিক্লেয়ারেশন, নিউজ বা ঘটনার জন্য দুর্বল পাবলিক পেনিক হয়ে শেয়ার বিক্রি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ফলে বড় ধরনের পতন হয়। এ পতন শেষ হতে ১ দিন হতে কয়েকদিন লাগে। ফ্লটিং শেয়ারগুলি খুব দ্রুত সময়ে স্মার্ট মানি বা বড় মামুদের বস্তাবন্দী হয়ে যায়। ফলে পতনের পরিসমাপ্তি ঘটে। এ রকম ঘটিনার পর উত্থান শুরু হতে বেশিদিন লাগে না।
Sudden Death : Sinobangla after declaration of No Dividend.
পতন শেষ হবার আলামত : আসুন দেখে নেই একটি শেয়ারের ডাউনট্রেন্ড সমাপ্ত হবার লক্ষণ কি :
১. ট্রেন্ড ও ট্রেন্ডলাইন : ডাউন হতে হতে এক পর্যায়ে ডাউনট্রেন্ড শেষ করে সাইডওয়ে মুভমেন্ট শুরু করবে। এ ক্ষত্রে ডাউন ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করবে এবং Higher Low তৈরি করবে। তবে ফেইক ব্রেক-আউট হতে সাবধান থাকতে হবে। উপমা : সুপারম্যান যখন পাহাড়-পর্বত থেকে নামতে নামতে ভূমিতল এর সমান্তরালে সবুজ বাতি জ্বালিয়ে হাটা শুরু করবে।
২. ক্যান্ডেলস্টিক : ২ ধরনের হতে পারে :
ক. ক্রমাগত পতন : ক্রমাগত পতন হতে হতে এক পর্যায়ে ক্যান্ডেল এর স্প্রেড ছোট হয়ে যাবে। ক্যান্ডেলস্টিকগুলির উচ্চতা প্রায় সমান হয়ে যাবে। মনে হবে বুকসেল্ফ এ লাল আর সবুজ বই এক সারিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ২-৩ টা Doji বা ২-৪ টা বিয়ারিশ-বুলিশ এনগালফিং এর কম্বিনেশন দেখা যাবে (এগুলি মূলত রিভার্সাল এর লক্ষণ)।
খ. আকস্মিক পতন : এ ক্ষেত্রে খুব বড় বড় লাল ক্যান্ডেল হবে। অনেক সময় বড় গ্যাপও হতে পারে। শেষের দিকে Hammer, Bullish Engulfing, Piercing, Doji, Morning Star ইত্যাদি রিভার্সাল ক্যান্ডেলস্টিক দেখা যাবে।
৩. ভলিউম : ভলিউম খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পতন পর্যায়ে ২ ধরনের ভলিউম দেখা যায় :
ক. ক্রমাগত পতন : প্রথম দিকে ভলিউম কিছুটা বেশি থাকলেও ভলিউম আস্তে আস্তে কমে আসে। ফ্লটিং শেয়ার শেষ হয়ে আসলে ভলিউম ড্রাই হয়ে যায়।
খ. আকস্মিক পতন : আকস্মিক পতনের ১ম দিন ভলিউম খুবই বেশি হয়। ফ্লটিং শেয়ার কমে আসলে ভলিউম কমতে থাকে।
৪. সাপোর্ট লেভেল : অনেকসময় পূর্বের কোন শক্তিশালী সাপোর্ট লেভেলে এসে পতনের পরিসমাপ্তি হয়। কিন্তু কোন কোন সময় সাপোর্ট লেভেল ব্রেক-ডাউন হতে পারে। তাই সাপোর্টে আসলেই এন্ট্রি দেয়া ঠিক না, রিভার্সাল কনফার্মেশন সিগনালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
৫. ভোলাটিলিটি : পতনের প্রথমদিকে ভোলাটিলিটি বেশি থাকলেও আস্তে আস্তে কমে আসবে।
৬. সাইডওয়ে কনসলিডেশন : ডাউনট্রেন্ড শেষ হলে সাধারনত শেয়ারটি ইউ-টার্ন নিয়ে আপট্রন্ড এ যায় না। বরং একটি সাইডওয়ে কনসলিডেশন মুডে চলতে থাকে (Range, Triangle, Wedges ইত্যাদি)।
৭. ইন্ডিকেটর : সাধারনত RSI এর মান ৩০ এর নিচে কিম্বা MFI এর মান ২০ এর নিচে চলে যাবে। তবে অনেক সময় RSI এর মান ১০ এর কাছাকাছি চলে আসলেও পতন অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রায় শেষ দিকে এসে দেখবেন দাম কমার স্লোপ আর MACD এর স্লোপ একে অপরের উলটা হয়ে গেছে। মানে দাম কমার স্লোপ ডাউন হলেও MACD এর স্লোপ আপ হয়ে যাবে।
৮. ব্রোলিঞ্জার ব্যান্ড : কাছাকাছি অবস্থান করবে। এর ব্রেথ সংকুচিত হয়ে যাবে।
৯. সেন্টিমেন্টাল : পাবলিকের সেন্টিমেন্ট সম্পুর্ণ নেগিটিভ হবে। অনেকে একে 'মরা শেয়ার', 'হিজড়া শেয়ার' ইত্যাদি নামে ডাকবে। যখন কোন সর্ট টার্ম ট্রেডারকে কিনতে বলবেন, তখন জবাব পাবেন - "ভাই এইটা বাদ দিয়ে অন্য কিছুর নাম বলেন"।
১০. ফান্ডামেন্টাল (হাসান ভাই) : ডিভিডেন্ড ঈল্ড ৪+ এর ঘরে চলে আসবে। স্টক পিই, সেক্টর পিই অথবা মার্কেট পিই এর নিচে চলে আসবে। বাজার মূল্য ইন্ট্রাঞ্জিক ভ্যালুর সমান ( স্ট্রং ফান্ডার ক্ষেত্রে) অথবা তার তুলনায় ২০-৩০% ডিস্কাউন্টে চলে আসবে (মোটামুটি বা কিঞ্চিত দূর্বল ফান্ডার ক্ষেত্রে)।
Down trend এর শেষঃ Mamun Sirajul Alam
১.Candle - Down trend এর শেষে red candle এর সংখ্যা তুলনা মুলক কমে আসবে। এক্ষেত্রে ছোট ছোট green candle অথবা neutral candle বেশি হবে। যদি লাস্ট থেকে হিসাব করা হয় দেখা যাবে 10 টার মধ্যে 4 টা green canle, 3 টা neutral candle এবং 3 টা red candle, অথবা 3 টা green candle, 4 টা neutral candle এবং 3 টা red candle. সোজা কথা red candle এর হার কমে আসবে।
২. SMA- Down trend এর শেষের দিকে SMA 5 line এর উপরে closing price এর সংখ্যা বাড়তে থাকবে, এবং SMA 5 line ধিরে ধিরে SMA 10 line এর উপরে চলে আসবে।
৩. অস্বিকৃতিঃ Down trend এর শেষের দিকে শেয়ার এর মধ্যে একটু বিদ্রোহী ভাব চলে আসবে, তখন শেয়ারটির আচরন হবে অনেকটা এমন- আমাকে যত ই মারেন কাটেন অনেক অধঃপতন হয়েছে আমি আর নিচে নামতে পারবনা
৪. Down trend সমাপ্তি বের করার জন্য SMA এর আরেকটি প্রয়োগ যোগ করা যেতে পারে। DOWN trend এর শেষের দিকে SMA 5,10,20 এবং 40 এর মান খুব কাছাকাছি হয়ে যায়। আগামি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আমরা ইনশা আল্লাহ অনেকগুলো downtrend এর সমাপ্তি এবং reversal trade এর example দেখতে পাব।
> Candle - Down trend এর শেষে red candle এর সংখ্যা তুলনা মুলক কমে আসবে। এক্ষেত্রে ছোট ছোট green candle অথবা neutral candle বেশি হবে। যদি লাস্ট থেকে হিসাব করা হয় দেখা যাবে 10 টার মধ্যে 4 টা green canle, 3 টা neutral candle এবং 3 টা red candle, অথবা 3 টা green candle, 4 টা neutral candle এবং 3 টা red candle. সোজা কথা red candle এর হার কমে আসবে।
> অস্বিকৃতিঃ Down trend এর শেষের দিকে শেয়ার এর মধ্যে একটু বিদ্রোহী ভাব চলে আসবে, তখন শেয়ারটির আচরন হবে অনেকটা এমন- আমাকে যত ই মারেন কাটেন অনেক অধঃপতন হয়েছে আমি আর নিচে নামতে পারবনা।
> SMA- Down trend এর শেষের দিকে SMA 5 line এর উপরে closing price এর সংখ্যা বাড়তে থাকবে, এবং SMA 5 line ধিরে ধিরে SMA 10 line এর উপরে চলে আসবে।
Here is my observation –
Stock prices and relative volume are the two most important indicators.
Any stock seems to bottom when few sellers are available and more buyers willingly want to buy at a high price


No comments:
Post a Comment